শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২৪ আগস্ট, ২০২৬

প্রবাস › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:মহাত্মা গান্ধী| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

২০ কোটি টাকার বেশি দামে বিক্রি গান্ধীর দুর্লভ হাতে লেখা সংগ্রহ

মহাত্মা গান্ধীর হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনা ও চিঠির বিরল সংগ্রহ নিলামে বিক্রি হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। স্যাফরনআর্ট আয়োজিত নিলামে সংগ্রহটির দাম উঠেছে ১৬ কোটি ২০ লাখ রুপি, যা প্রায় ১২ লাখ পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি। নিলাম প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো ভারতীয় ঐতিহাসিক নথি বিক্রির ক্ষেত্রে এটিই নতুন বিশ্বরেকর্ড। গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সহযোদ্ধা আনন্দ টি হিঙ্গোরানির সংগ্রহ থেকে এসব ঐতিহাসিক লেখা নিলামে তোলা হয়। ‘গান্ধী: ফ্রম দ্য কালেকশন অব আনন্দ টি হিঙ্গোরানি’ নামে আয়োজিত নিলামে মোট ৮৬টি লট ছিল। তবে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে গান্ধীর নিজের হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনার বিশাল সংকলন। এসব ভাবনা কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলিল হিসেবে শুরু হয়নি। এর পেছনে ছিল গান্ধী ও হিঙ্গোরানির মধ্যকার ব্যক্তিগত যোগাযোগের একটি মানবিক গল্প। হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যা মারা যাওয়ার পর তিনি গভীর শোক ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে পড়েন। শ্রবণ সমস্যার চিকিৎসার জন্য প্রকৃতিনির্ভর চিকিৎসা নেওয়ার সময় নিজের মানসিক কষ্টের কথা তিনি গান্ধীর কাছে তুলে ধরতেন। বন্ধুকে সান্ত্বনা দিতে গান্ধী প্রতিদিন একটি করে ভাবনা লিখে হিঙ্গোরানির কাছে পাঠাতে শুরু করেন। ১৯৪৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে চলতে থাকে এই লেখালেখি। ব্যক্তিগত সান্ত্বনার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে গান্ধীর চিন্তা ও দর্শনের অন্যতম বিস্তৃত সংরক্ষিত দলিলে পরিণত হয়। পরে এসব লেখা ‘এ থট ফর দ্য ডে’ বইয়ে সংকলিত হয়। স্যাফরনআর্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মিনাল ভাজিরানি জানান, গান্ধী নিয়মিত সময় বের করে হিঙ্গোরানির জন্য ব্যক্তিগতভাবে এসব ভাবনা লিখতেন। হিঙ্গোরানি শুধু সেগুলোর প্রাপকই ছিলেন না; তিনি লেখাগুলো সংগঠিত ও প্রতিলিপি করেন এবং পরবর্তীতে প্রকাশনার জন্য সেগুলো প্রস্তুত করেন। এই ৬৮৮টি লেখায় গান্ধীর জীবনদর্শনের বিস্তৃত পরিসর ফুটে উঠেছে। সত্য ও অহিংসা থেকে শুরু করে ব্রহ্মচর্য, আত্মসংযম, সম্পদের প্রতি অনাসক্তি, নির্ভীকতা, ধর্মীয় সমতা, প্রার্থনা, সেবা, শ্রম, কর্তব্য, নীরবতা, বিবেক, আত্মোপলব্ধি ও ঈশ্বরের অনুসন্ধানের মতো বিষয় এতে স্থান পেয়েছে। সংগ্রহটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ১৯৩০ ও ১৯৩১ সালে লেখা নয়টি চিঠি। আনন্দ ও বিদ্যা হিঙ্গোরানির বিয়ে এবং সেই সম্পর্ক ঘিরে পারিবারিক আপত্তি, আর্থিক স্বাধীনতা, পারিবারিক পুনর্মিলন, দাম্পত্য দায়িত্ব ও আত্মসংযাপনসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে গান্ধীর মতামত এসব চিঠিতে পাওয়া যায়। নিলামে গান্ধীর ঈশ্বর ও ভগবদ্গীতা নিয়ে লেখা তিনটি পাণ্ডুলিপি ও চিঠির একটি সেট ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। তার বহনযোগ্য বাক্স-চরকার দাম উঠেছে ১ কোটি ২ লাখ রুপি। এসব বিক্রিও গান্ধীর ব্যক্তিগত সামগ্রীর প্রতি সংগ্রাহকদের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেছে। হিঙ্গোরানি পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে এসব লেখা ও সামগ্রী যত্নসহকারে সংরক্ষণ করে আসছিল। এবার স্যাফরনআর্টের নিলামের মাধ্যমে সেগুলো নতুন মালিকের হাতে গেলেও স্যাফরনআর্ট জানিয়েছে, ক্রেতা একজন ভারতীয় নাগরিক এবং পাণ্ডুলিপিগুলো ভারতেই থাকবে। ক্রেতার নাম অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে নিলামকে ঘিরে সব প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক নয়। দিল্লির ন্যাশনাল গান্ধী মিউজিয়ামের পরিচালক এ আনামালাই গান্ধীর ঐতিহাসিক নথি বিক্রির ঘটনাকে ‘গভীরভাবে বেদনাদায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গান্ধীর মূল চিঠি, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী কেবল ব্যক্তিগত সংগ্রহের বস্তু নয়; এগুলো ভারতের অভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহাসিক দলিল পৌঁছে দিতে সেগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে রেকর্ড দামে বিক্রির সাফল্যের পাশাপাশি গান্ধীর ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ নিয়ে ভারতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: স্যাফরনআর্ট।





মন্তব্য