১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › রাজনীতি

চিত্র:বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ দুই দশক পর চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার পথে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বড় ধরনের অগ্রগতি দেখিয়েছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ঘোষিত অঘোষিত হিসেবে ২০৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭০টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬ এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৪টি আসনে জয় পেয়েছেন। কয়েকটি আসনের ফলাফল এখনও ঘোষণা প্রক্রিয়াধীন। তারেক রহমানের দ্বৈত বিজয়-দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ উভয় আসনেই বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিত করেছেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তারেক রহমান এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন এবং দুই আসনেই উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয়ী হন। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরা BNP: অতীতের দিকে এক নজর:বিএনপির সর্বশেষ ক্ষমতায় আরোহন ২০০১ সালের নির্বাচন ঘিরে। পাঁচ বছর মেয়াদের সেই সরকার প্রধান ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া; ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাসের সময় বিএনপি ব্যাপক জনসমর্থনে সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯৬ সালেও দলটি স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় থাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এই দীর্ঘ যাত্রার শুরু আরও পেছনে—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দলের উত্থান এবং পরে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিএনপিকে জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়। তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা- তৃণমূল থেকে শীর্ষে:দল ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তারেক রহমান—নেতৃত্ব পর্যায়ে এমন প্রত্যাশা এখন অনেকটাই স্পষ্ট। ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন গত ২৫ নভেম্বর, এবং তার দু’দিন পর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। আশির দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনীতির সূচনা। তৃণমূলে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের সংস্কৃতি চালু করার জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দলের যুগপৎ আন্দোলনে তিনি পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন। নতুন নেতৃত্বের সামনে নতুন অধ্যায়: ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ অগ্রগতি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রূপান্তর—এই দুই মিলিয়ে বিএনপির সামনে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে। বাকি কয়েকটি আসনের ফল প্রকাশিত হলেই চূড়ান্ত ছবিটি স্পষ্ট হবে, তবে বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে দলটি প্রভাবশালী অবস্থান নিয়েই সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হচ্ছে বলে ধারণা মিলছে।
মন্তব্য:০